গরীবের আবার কীসের দিবস না খাটলে মুখে ভাত ওঠে না

কর্তৃক নিজস্ব প্রতিবেদক

গাংনী নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:

আজ মে দিবস। তবে মেহেরপুরে গাংনী উপজেলার অধিকাংশ দিনমজুর জানেনা মে দিবস কি।আর কি হয়েছিল এই দিনে।অধিকাংশ শ্রমিকি জানিয়েছেন আমরা দিবস দিয়ে কি করব না খাটলে যখন মুখে ভাত ওঠে না।কাজ করলে টাকা পাবো সেই টাকা দিয়ে পরিবারের মুখে ভাত তুলে দেব আমরা এটাই বুঝি।আমাদের মত গরিব মানুষের কোন দিবস নেই।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আব্দুল হান্নান বলেন, আমাদের আবার কিসের দিবস একদিন না খাটলে যখন মুখে ভাত উঠবে না।প্রতিমাসে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়।এর মধ্যে ছেলে মেয়ের স্কুল যাওয়া,খাতা-কলম,ঔষধসহ বিভিন্ন খরচ আছে।গরিব মানুষের দিবস দিয়ে পেট চলে না।

তিনি বলেন,প্রতিদিন কাজে আসলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়।কিন্তু দিনশেষে কোন টাকা জমা করতে পারি না।সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,বাজার করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।

উপজেলার কাজিপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি জামিরুল ইসলাম বলেন,মে দিবস আছে শুনেছি কিন্তু ওতো  বুঝি না।এই দিবসে কি হয়েছিল তাও জানিনা।আমরা রাজমিস্ত্রির কাজ করি বিভিন্ন গ্রামে যেতে হয়।তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তারপরও আমাদের প্রতিদিনই কাজ করতে হয়।এরোধ গরমে কাজ করা যে এত কঠিন তা বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি আরো বলেন,আমাদের মতো গরিব মানুষদের আবার দিবস কিসের,না খাটলে যখন কেউ খেতে দেবে না।সবাই কাজে এসেছে তাই আমিও এসেছি।

কাজ করতে যাওয়া পথচারী মুস্তাক আহমেদ নামের এক দিনমজুর বলেন,আমরা দিবস দিয়ে কি করবো,গরিবের পেট চলে টাকাতে দিবসে না।তবে এই দিবসটি যেহেতু শ্রমিকদের নিয়ে তাই দিবসটিতে ছুটি থাকা ভালো। 

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, ‘শ্রমিকরা এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন।তারা তাদের অধিকার আদায়ে সব সময় তৎপর।তারপরও কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।আর যদি কোথাও শিশুশ্রমের তথ্য পায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন

shares
error: Content is protected !!